Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Saturday, July 8, 2023

আত্মঘাতী (শূন্য থেকে ফিরে)

'শূন্য থেকে ফিরে', আমার প্রথম কবিতার বই। প্রথম সংস্করণ ২৫ শে বৈশাখ, ১৪২৪, ইংরেজী ৯ মে, ২০১৭। স্মৃতিমেদুর এক শুভারম্ভ। জীবনের প্রথম কবিতার বই, প্রকাশ পেতে চলেছে। পাণ্ডুলিপি, প্রকাশকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর থেকে, শুরু হয়ে গিয়েছিল তীব্র এক উন্মাদনা। 

প্রথম প ্রুফ তৈরি হল, প্রকাশক বললেন, 'আপনাকে আরও কয়েকটা আবশ্যিক কাজ করে ফেলতে হবে।'

আবশ্যিক কাজ কি, জানতে চাইলাম। উত্তর এলো, 'ভালো প্রচ্ছদ আঁকাতে হবে। আপনি দায়িত্ব নেবেন নাকি আমি চেনাজানা শিল্পীকে দিয়ে করিয়ে নেবো। তবে ভরসা রাখতে পারেন। প্রচ্ছদ আকর্ষণীয় হবে।'

আমি বললাম, 'ঠিক আছে। আপনার শিল্পীকে দিয়ে প্রচ্ছদ আঁকিয়ে দিন।' 

বলতে নেই, প্রচ্ছদ খারাপ হয়নি। আমার তো খুব পছন্দ। আপনারা বলুন, প্রচ্ছদ কেমন? এই যে নীচে, কাব্যগ্রন্থের ছবি দিলাম।

এর পরের কাজ, প্রকাশক বললেন, উৎসর্গ কার উদ্দেশ্যে, তার নাম বলতে হবে। আমি বললাম, 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।' প্রকাশক খুশি হলেন। তারপর ভূমিকা ইত্যাদি তৈরি করে নিয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হল 'শূন্য থেকে ফিরে'। বইতে কবিতা আছে মোট ৫৬টি। সূচীপত্রের প্রথম কবিতা, 'আত্মঘাতী'। কবিতার কয়েকটা পংক্তি নিয়ে YouTube Shorts বানিয়েছি। নীচে তার লিংক দিলাম।



    


Sunday, November 14, 2021

আঙুল ছুঁয়ে গলে পড়ে জল


বাংলা সাহিত্যে ওয়েব ম্যাগাজিন এখন বেশ জনপ্রিয় এবং পরিচিত একটি সাহিত্য মাধ্যম।  একটা সময় ছিল মুদ্রিত পত্রিকা ছাড়া পাঠকের কাছে আর কোন পঠন মাধ্যম ছিল না। আন্তর্জাল আজকের জীবনকে অনেক ভাবে প্রভাবিত করেছে। তার মধ্যে ওয়েব ম্যাগাজিন অন্যতম।

হাতের মুঠোয় ফোন। মানুষের বহু প্রয়োজন সে মিটিয়ে দেয়। মোবাইলের পর্দায় ওয়েব ম্যাগাজিন টেনে এনে মানুষ এখন সাহিত্যের রসও আস্বাদন করতে পারে। আন্তর্জাল এবং মোবাইল ফোন, বিজ্ঞানের দুই জনপ্রিয় আবিষ্কার সাহিত্যকে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে।

আন্তর্জাল ম্যাগাজিনের জগতে পাতা প্রকাশ একটি পরিচিত নাম। এখানে আমি আগেও লিখেছি। আবার লিখলাম।   বিষয় বৈচিত্রে ভরপুর পত্রিকাটিতে আমার অবদান, একটি কবিতা।

Sunday, August 1, 2021

এক বন্ধু এবং ছোটবেলার স্মৃতি



Happy Friendship Day নিয়ে লিখতে বসে অনেক কথা মনে পড়ে যায়। কখনও কবিতায় এই নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি। অর্ধ শতক পার করা জীবনে অনেক মানুষের সান্নিধ্য পেয়েছি। তাই নিয়ে লিখতে বসলে প্রমাণ সাইজের বেশ কিছু উপন্যাস হয়ে যেতে পারে।

আমি তখন অনেক ছোট। কলকাতায় থাকি। কথা  প্রসঙ্গে বলে রাখি, জন্ম থেকে শুরু করে বেশ কয়েক বছর কলকাতায় কাটিয়ে তারপর আমরা শহর বদলেছিলাম। পড়াশোনার শুরুও কলকাতায়। জীবনের প্রথম স্কুলের নাম মনে আছে। পরবর্তী কালে যাতায়াতের পথে সেই স্কুলের বিজ্ঞাপন দেখেছি। তবে ঘুরে দেখে আসার সৌভাগ্য হয়নি। শুনেছি, স্কুলটি এখনও আছে।

এবার আসি, মূল প্রসঙ্গে। একটি ছেলে। ধরে নেওয়া যাক তার নাম বিশ্বজিত। তার সাথে বন্ধুতা হয়েছিল। সম্ভবত স্কুল থেকেই বন্ধুত্ব হয়েছিল। ওই বয়সে তাছাড়া আর কিভাবেই বা বন্ধুতা হতে পারে! তারপর যত দিন কলকাতায় ছিলাম, দেখা হত প্রায়ই। একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ছে।

বিশ্বজিতের বাড়ি কোথায় ছিল, এত দিন সেটা মনে পড়ে না। তবে চোখ বন্ধ করলে একটা দৃশ্য মনে পড়ে। সম্ভবত রথের দিনে বিশ্বজিতের বাড়ি এসেছিলাম। আবছা আবছা মনে পড়ে, বিশ্বজিত আর আমি রথ সাজাচ্ছি। হঠাৎ বিশ্বজিত বলেছিল, 'চল, বারান্দায় যাই'।

ওদের দোতলার বারান্দা খোলামেলা। খোলা আকাশের নীচে, আকারে বেশ বড়সড়। অনেক দূর দূর পর্যন্ত দেখা যায় বারান্দা থেকে।  শহুরে মানুষজন যাকে টেরেস বলে, অনেকটা সেই রকম। ডান দিকে, বাঁ দিকে অনেক দূরের বাড়ি দেখতে পাচ্ছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল, বেশ দূরে একটা একটা একতলা বাড়ির মাথা থেকে ধোঁয়ার মত কি বেরোচ্ছে। অত ছোট বয়সে ধোঁয়ার রূপ নিয়ে কি-ই বা ধারণা থাকতে পারে।  অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে দেখছিলাম, কারণ ক্রমশ সেটা একটা অবয়বে রূপান্তরিত হচ্ছিল। 

ওদিকে আঙুল দেখিয়ে বিশ্বজিতকে বললাম, 'দেখেছিস?' তার আগে বিশ্বজিত কিছুক্ষণের জন্য় ভিতরে গিয়েছিল। সবে ফিরে এসেছে, আমি ওকে প্রশ্ন করলাম। বেশি সময় না নিয়ে ও সঙ্গে সঙ্গে বলে বসল, 'ওটা তো দৈত্য! চল ভিতরে, তোকে দেখতে পেলে ও এখানে চলে আসবে। তখন আমরা কিছু করতে পারব না।'  সেদিন ওই কথাটা মনে খুব দাগ ধরেছিল। নাহলে অবশ্য এত দিন ধরে মনেই বা থাকবে কেন?

এত দিন পরে, বিশ্বজিতের কথা খুব মনে পড়ছে।  সে এখন কোথায়, আছে  কেমন, কিছুই তো জানি না। এমন কত বন্ধু জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। তাদের কি আর কোন দিন দেখতে পাব? জানতে পারব, তারা কেমন আছে? তারাই বা কি আর আমাকে দেখতে পাবে না জানতে পারবে, আমি কেমন আছি?

শেষের আগে আমার সব বন্ধুদের উদ্দেশ্যে এই Happy Friendship Card আর  একটি কবিতা।




Happy Friendship Day নিয়ে ভাবতে ভাবতে স্বরচিত এই কবিতাটি খুঁজে পেলাম। কোন এক দিনে লিখেছিলাম কবিতাটি। তারপর সে কবিতা গ্রন্থিত হয়েছে  'শূন্য থেকে ফিরে' কাব্যগ্রন্থে।