Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

Monday, April 25, 2022

সেই রাতঃ একটি করুণ কাহিনী

 


যারা শহরতলিতে থাকেন, তাদের অনেকের কাছে বেশি রাতের ট্রেন সফর একটা বিড়ম্বনা। ভাগ্যে থাকলে কি-ই বা করবেন। তবে এড়াতে পারলে ভাল।

ব্যক্তিগত ভাবে আমার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সুবার্বান ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা প্রচুর। দিন, রাত মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে লোকাল ট্রেনে চড়েছি। যা দেখেছি, মোটামুটি হাওড়া থেকে যে লোকাল রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে ছাড়ে, সেসব ট্রেনের কামরায় তবুও মোটামুটি যাত্রী থাকে। তারপর যে সব ট্রেন ছাড়ে, তাতে যাত্রী সংখ্যা ভীষণ ভাবে কমে যায়। আরও উৎকণ্ঠার বিষয় যে এই বেশি রাতের ট্রেন যাত্রীদের একটা মোটামুটি বড় অংশ মদ্য পান করে ট্রেনে ওঠে। সেটা তাদের আচরণ থেকে বোঝা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা বাকি যাত্রীদের না অসুবিধা সৃষ্টি করছে, কোন কিছু এসে যাচ্ছে না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা অসুবিধার কারণ হয় বই কি। 

যেমন তারা যদি আসনে না বসে কামরার মেঝেতে বসে, তবে তাদেরকে ডিঙিয়ে গেটের দিকে যেতে হবে। শান্তিপ্রিয় যাত্রীরা যতই মনে মনে তাদের এড়িয়ে চলতে চায় না কেন বাধ্য হয়ে সরে বসার কথা বলতে হয়।  এই সময়কার ট্রেনে আবার সবজি কেনাবেচা চলে। সেই সব সবজি বিক্রেতা এবং এই সব মদ্যপ যাত্রীদের এড়িয়ে গেটের দিকে যেতে কখনও কখনও খুবই অসুবিধা হয়।

এছাড়াও যে বিপদটা বেশি রাতের লোকাল ট্রেনে থাকে, তা হল ছিনতাইবাজ এবং দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি। মোটামুটি সাঁত্রাগাছি বা মৌরীগ্রাম-আন্দুল পর্যন্ত এরা চুপ থাকে। কারণ হাওড়া শহরের বসতি অনুপাতে হাওড়া থেকে এই দূরত্ব পর্যন্ত যাত্রীসংখ্যা বরাবর বেশি। সুতরাং বেশি রাতের লোকালে যখন এমনিতেই মোট যাত্রী  সংখ্যা কম, সেখানে এই অধিক সংখ্যক যাত্রী আন্দুল পর্যন্ত যাওয়ার পর কামরার অবস্থা কি হয় বোঝাই যায়। এবং বাস্তব বলছে এরপর ট্রেনে যে সব যাত্রী রয়ে যায়, দুর্বৃত্ত বা ছিনতাইবাজরা তাদেরই লক্ষ্য করে।

যাই হোক, কিছু প্রত্যক্ষ  এবং কিছু পরোক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছি এই গল্প। ছাপা হয়েছে গত ৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে প্রকাশিত মেদিনীপুর সাহিত্য আকাদেমির মুখপত্রে। গল্পটি পড়ার পরে আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকবেন বন্ধুরা।


Wednesday, April 20, 2022

বিতর্কিতঃ একটি গল্প এবং তার প্রেক্ষিত


লেখা চেয়ে ফেসবুকে দেওয়া কালি কলম ও ইজেল পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি প্রথম যখন দেখেছিলাম, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল না। Paraphilia অর্থাৎ বিকৃত যৌনতা নিয়ে পত্রিকার সংখ্যা করবে, সম্পাদক আর তার সাথীদের সাহস তো নেহাত কম নয়। সন্দেহ জেগেছিল, এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে লেখা পাবে তো? 

এবার নিজের লেখার কথা বলি। সংশয় ছিল, এমন বিষয় নিয়ে আমি কি একটি গল্প লিখতে পারব? তাও আবার বড় গল্প। শব্দসীমা বলা আছে ৩৫০০ - ৪০০০ শব্দ। ক'দিন ধরে ভাবলাম, ক্রমাগত ভেবেই চললাম। কিছু গবেষণাও করলাম। সম্ভবত পত্রিকা থেকে বিকৃত যৌনতার রকমফের নিয়ে একটি তালিকাও দিয়েছিল। হয়ত লেখকদের সুবিধার জন্যই তারা এটা করেছিল। সেই তালিকাটিও গবেষণার কাজে সাহায্য করেছিল।

সত্যি বলতে কি, কয়েক দিন ধরে বিষয়টাকে নিয়ে ভাবনা-চিন্তার পরে মনের মধ্যে একটি গল্পের রূপরেখা  ধীরে ধীরে জন্ম নিল। শুরু করে দিলাম লেখা। একটু এগোই, একটু থামি। ভাবতে থাকি,গল্পের সাহিত্য মান ঠিক থাকছে তো। একটু পদস্খলন হলেই কিন্তু বাজারি কোকশাস্ত্র বা পানু গল্পের মত না হয়ে যায়। 

কয়েক দিনের চেষ্টায় দাঁড়াল একটি গল্প। এখন মনে পড়ছে না, সম্ভবত সম্পাদক বা সম্পাদকমণ্ডলীর কারও সঙ্গে কথা হয়েছিল। জানতে চেয়েছিলাম, এই সংখ্যাটি ওরা সাজাবে কিভাবে? কথা বলে দেখলাম, ওরা খুব আত্মবিশ্বাসী। বলল, আমরা আমন্ত্রণী এবং প্রাপ্ত লেখা থেকে বাছাই করে, সব মিলিয়ে সাজাবো। আমন্ত্রণী লেখাগুলি সম্ভবত সবই ছিল প্রবন্ধ। বলেছিল, বেশ কিছু সাহিত্যিককে প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমি লেখা পাঠিয়ে দিলাম। ওরা প্রাপ্তি স্বীকার করেছিল। এখন মনে পড়ছে, ওরা নির্বাচিত লেখার তালিকা প্রকাশ করতে দেখলাম তালিকায় আছে আমার লেখা। তখনও পর্যন্ত মনে একটাই চিন্তা, পাঠকের ফিডব্যাক কেমন হবে! 

এবার যেটা হল, পত্রিকা প্রকাশ পিছিয়ে গেল। আমি খবর নিয়েছিলাম, ওরা জানাল, মূলত আমন্ত্রণী লেখা পেতে দেরি হওয়ার কারণে ওরা পত্রিকা প্রকাশ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। করোনার আগে পত্রিকা প্রকাশ হল না। তারপর তো করোনার কারণে লেখার জগতে টানা দুই বছর ছন্দ বিনাশ।  এবার বইমেলার আগে ওরা ইমেল করে জানাল, পত্রিকা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হতে চলেছে।

তারপর তো বইমেলা এলো এবং চলেও গেল। এত দিন ধরে এত লেখা লিখেছি, এই লেখাটি ছাপার অক্ষরে দেখার বিশেষ ইচ্ছে ছিল। তার কারণ অন্য কিছু নয়। গল্পের মধ্যে বিকৃত যৌনতা, নিতান্ত সূক্ষ্ণ এবং সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে। অবশেষে, কলেজ স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত ছোট পত্রিকা মেলায় ওদের স্টল থেকে সংগ্রহ করলাম পত্রিকা। তারপর বাড়ি ফিরে পর দিন সকালে গোগ্রাসে পড়ে ফেললাম আমার গল্প।  এবার আপনাদের থেকে জানা বাক, কেমন পড়লেন আমার এই গল্প।

কলেজ স্কোয়ারে পত্রিকা সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিচয় হল পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে। শুনলাম, এবার কলকাতা বইমেলায় নাকি পত্রিকাটি প্রচুর বিক্রি হয়েছে। খবরটা দারুণ উপভোগ করলাম। গল্পের প্রেক্ষিত নিয়ে এবার নিজের ব্লগে লিখলাম। এবার আপনাদের বলার পালা, কেমন পড়লেন আমার গল্প!

ভাল থাকবেন সবাই। আবার কথা হবে।

Thursday, April 14, 2022

ঘুগনি, এক নিত্যযাত্রীর চোখে...


অনেক দিন হল ট্রেনে চড়ছি। দেখেছি অনেক কিছু। বহু বছর ধরে ট্রেন সফরের খুব সামান্য একটি ঘটনা নিয়ে লিখেছিলাম এই গল্প। প্রকাশিত হয়েছিল দ্বান্দ্বিক পত্রিকার ১৪২৭ উৎসব সংখ্যায়।

খাদ্য রূপে ঘুগনি বাঙালির কাছে সেরকম বিশেষ কিছু নয়। হ্যাঁ, হতে পারে খুব পছন্দের। তবে কৌলীন্যে খুব একটা গুরুত্ব পায় না। অফিস টাইম বাদ দিলে অন্য সময় ঘুগনিওয়ালাদের দেখা মেলে। তবে লক্ষ্য করেছি, একটু পরিপাটি করে জামাকাপড় পরা বাবুদের এরা এড়িয়ে চলে। আমার ধারণা, এড়িয়ে চলে ব্যবসার কারণে। এই শ্রেণির যাত্রীদের মধ্যে ঘুগনি খাওয়ার প্রবণতা খুব বেশি থাকে না।

তাহলে কোথায় এই ঘুগনিওয়ালাদের বেশি দেখা যায়?  এদের খুব বেশি দেখা যায় ভেন্ডর কামরায়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলছে, কিছু ঘুগনি-বিক্রেতা আছেন যাঁরা ভেন্ডর কামরায় বেচাকেনা সেরে প্রয়োজনে কোন স্টেশনে নেমে যান। তারপর কিন্তু এদের অন্য কামরাতে, ঘুগনি বিক্রি করতে দেখা যায় না। তার থেকে এদের বরং বেশি পছন্দ পরের ট্রেনের ভেন্ডর কামরা।

এদের কেউ কেউ মুড়িতে মাখিয়ে ঘুগনি বেচে। সঙ্গে পেঁয়াজ, শসা কুচি, লংকার টুকরো আর সামান্য বিট লবণ। কখনও কখনও একটু পাতিলেবুর রসও ছড়িয়ে দেয়। আবার কেউ কেউ শুধু ঘুগনি বেচেন। সঙ্গে কেউ চাইলে বাড়িয়ে দেন কোয়ার্টার পাউণ্ড পাঁউরুটি। 

আমার গল্পে যে ঘুগনিওয়ালা রয়েছেন, তিনি বৃদ্ধ। ওপর এবং নীচের পাটির বেশ কয়েকটি দাঁত পড়ে গেছে। কথা বলতে গেলে দুই গালে টোল পড়ে যায়। অবশ্য তিনি কথাও কম বলেন।  তাঁর আর একটি বিশেষত্ব আছে। তিনি সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরেন।  কথা কম বলেন।

অফিস টাইমে হাওড়ামুখী ডাউন লোকালে ঘুগনির খদ্দের থাকে না। সেই সময়টা তিনি কামরায় বসে লোকজনের সঙ্গে তাস খেলে কাটান।  তারপর ট্রেন হাওড়ায় পৌঁছালে তাঁকে বাদ দিয়ে সবাই নেমে যায়। তিনি আবার কোন এক আপ লোকালে উঠে ঘুগনি বিক্রি করেন।

করোনার পরে তাঁকে আমি অনেক দিন দেখিনি।  তবে তাঁকে আমি ভুলিনি। এখনও আমার দৈনন্দিন ট্রেন যাত্রায় কখনও ঘুগনিওয়ালা চোখে পড়লে, তাঁর কথা মনে পড়ে যায়। ইচ্ছে করে জানতে, তিনি আছেন কেমন? 

ট্রেনের সফর এক অদ্ভুত যাত্রা। এ যেন আগে থেকে ঠিক করা থাকে, সামান্য় একটু সময়ের জন্য় মানুষে মানুষে দেখা হবে। তারপর কে কোথায়, কারও কাছে তার খবর থাকবে না। কেউ যদি তাঁর খবর পান, জানাবেন আমাকে। আর অবশ্যই পড়বেন গল্পটি। আগামী দিনে নিশ্চয় আমার কোন গল্প সংকলনে গল্পটি গ্রন্থিত হবে। তখন জানাবো সে কথা। ভাল থাকবেন বন্ধুরা।