লেখা চেয়ে ফেসবুকে দেওয়া কালি কলম ও ইজেল পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি প্রথম যখন দেখেছিলাম, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিল না। Paraphilia অর্থাৎ বিকৃত যৌনতা নিয়ে পত্রিকার সংখ্যা করবে, সম্পাদক আর তার সাথীদের সাহস তো নেহাত কম নয়। সন্দেহ জেগেছিল, এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে লেখা পাবে তো?
এবার নিজের লেখার কথা বলি। সংশয় ছিল, এমন বিষয় নিয়ে আমি কি একটি গল্প লিখতে পারব? তাও আবার বড় গল্প। শব্দসীমা বলা আছে ৩৫০০ - ৪০০০ শব্দ। ক'দিন ধরে ভাবলাম, ক্রমাগত ভেবেই চললাম। কিছু গবেষণাও করলাম। সম্ভবত পত্রিকা থেকে বিকৃত যৌনতার রকমফের নিয়ে একটি তালিকাও দিয়েছিল। হয়ত লেখকদের সুবিধার জন্যই তারা এটা করেছিল। সেই তালিকাটিও গবেষণার কাজে সাহায্য করেছিল।
সত্যি বলতে কি, কয়েক দিন ধরে বিষয়টাকে নিয়ে ভাবনা-চিন্তার পরে মনের মধ্যে একটি গল্পের রূপরেখা ধীরে ধীরে জন্ম নিল। শুরু করে দিলাম লেখা। একটু এগোই, একটু থামি। ভাবতে থাকি,গল্পের সাহিত্য মান ঠিক থাকছে তো। একটু পদস্খলন হলেই কিন্তু বাজারি কোকশাস্ত্র বা পানু গল্পের মত না হয়ে যায়।
কয়েক দিনের চেষ্টায় দাঁড়াল একটি গল্প। এখন মনে পড়ছে না, সম্ভবত সম্পাদক বা সম্পাদকমণ্ডলীর কারও সঙ্গে কথা হয়েছিল। জানতে চেয়েছিলাম, এই সংখ্যাটি ওরা সাজাবে কিভাবে? কথা বলে দেখলাম, ওরা খুব আত্মবিশ্বাসী। বলল, আমরা আমন্ত্রণী এবং প্রাপ্ত লেখা থেকে বাছাই করে, সব মিলিয়ে সাজাবো। আমন্ত্রণী লেখাগুলি সম্ভবত সবই ছিল প্রবন্ধ। বলেছিল, বেশ কিছু সাহিত্যিককে প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে।
নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমি লেখা পাঠিয়ে দিলাম। ওরা প্রাপ্তি স্বীকার করেছিল। এখন মনে পড়ছে, ওরা নির্বাচিত লেখার তালিকা প্রকাশ করতে দেখলাম তালিকায় আছে আমার লেখা। তখনও পর্যন্ত মনে একটাই চিন্তা, পাঠকের ফিডব্যাক কেমন হবে!
এবার যেটা হল, পত্রিকা প্রকাশ পিছিয়ে গেল। আমি খবর নিয়েছিলাম, ওরা জানাল, মূলত আমন্ত্রণী লেখা পেতে দেরি হওয়ার কারণে ওরা পত্রিকা প্রকাশ পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। করোনার আগে পত্রিকা প্রকাশ হল না। তারপর তো করোনার কারণে লেখার জগতে টানা দুই বছর ছন্দ বিনাশ। এবার বইমেলার আগে ওরা ইমেল করে জানাল, পত্রিকা শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হতে চলেছে।
তারপর তো বইমেলা এলো এবং চলেও গেল। এত দিন ধরে এত লেখা লিখেছি, এই লেখাটি ছাপার অক্ষরে দেখার বিশেষ ইচ্ছে ছিল। তার কারণ অন্য কিছু নয়। গল্পের মধ্যে বিকৃত যৌনতা, নিতান্ত সূক্ষ্ণ এবং সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে। অবশেষে, কলেজ স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত ছোট পত্রিকা মেলায় ওদের স্টল থেকে সংগ্রহ করলাম পত্রিকা। তারপর বাড়ি ফিরে পর দিন সকালে গোগ্রাসে পড়ে ফেললাম আমার গল্প। এবার আপনাদের থেকে জানা বাক, কেমন পড়লেন আমার এই গল্প।
কলেজ স্কোয়ারে পত্রিকা সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিচয় হল পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে। শুনলাম, এবার কলকাতা বইমেলায় নাকি পত্রিকাটি প্রচুর বিক্রি হয়েছে। খবরটা দারুণ উপভোগ করলাম। গল্পের প্রেক্ষিত নিয়ে এবার নিজের ব্লগে লিখলাম। এবার আপনাদের বলার পালা, কেমন পড়লেন আমার গল্প!
ভাল থাকবেন সবাই। আবার কথা হবে।