যারা শহরতলিতে থাকেন, তাদের অনেকের কাছে বেশি রাতের ট্রেন সফর একটা বিড়ম্বনা। ভাগ্যে থাকলে কি-ই বা করবেন। তবে এড়াতে পারলে ভাল।
ব্যক্তিগত ভাবে আমার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সুবার্বান ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা প্রচুর। দিন, রাত মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে লোকাল ট্রেনে চড়েছি। যা দেখেছি, মোটামুটি হাওড়া থেকে যে লোকাল রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে ছাড়ে, সেসব ট্রেনের কামরায় তবুও মোটামুটি যাত্রী থাকে। তারপর যে সব ট্রেন ছাড়ে, তাতে যাত্রী সংখ্যা ভীষণ ভাবে কমে যায়। আরও উৎকণ্ঠার বিষয় যে এই বেশি রাতের ট্রেন যাত্রীদের একটা মোটামুটি বড় অংশ মদ্য পান করে ট্রেনে ওঠে। সেটা তাদের আচরণ থেকে বোঝা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা বাকি যাত্রীদের না অসুবিধা সৃষ্টি করছে, কোন কিছু এসে যাচ্ছে না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা অসুবিধার কারণ হয় বই কি।
যেমন তারা যদি আসনে না বসে কামরার মেঝেতে বসে, তবে তাদেরকে ডিঙিয়ে গেটের দিকে যেতে হবে। শান্তিপ্রিয় যাত্রীরা যতই মনে মনে তাদের এড়িয়ে চলতে চায় না কেন বাধ্য হয়ে সরে বসার কথা বলতে হয়। এই সময়কার ট্রেনে আবার সবজি কেনাবেচা চলে। সেই সব সবজি বিক্রেতা এবং এই সব মদ্যপ যাত্রীদের এড়িয়ে গেটের দিকে যেতে কখনও কখনও খুবই অসুবিধা হয়।
এছাড়াও যে বিপদটা বেশি রাতের লোকাল ট্রেনে থাকে, তা হল ছিনতাইবাজ এবং দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি। মোটামুটি সাঁত্রাগাছি বা মৌরীগ্রাম-আন্দুল পর্যন্ত এরা চুপ থাকে। কারণ হাওড়া শহরের বসতি অনুপাতে হাওড়া থেকে এই দূরত্ব পর্যন্ত যাত্রীসংখ্যা বরাবর বেশি। সুতরাং বেশি রাতের লোকালে যখন এমনিতেই মোট যাত্রী সংখ্যা কম, সেখানে এই অধিক সংখ্যক যাত্রী আন্দুল পর্যন্ত যাওয়ার পর কামরার অবস্থা কি হয় বোঝাই যায়। এবং বাস্তব বলছে এরপর ট্রেনে যে সব যাত্রী রয়ে যায়, দুর্বৃত্ত বা ছিনতাইবাজরা তাদেরই লক্ষ্য করে।
যাই হোক, কিছু প্রত্যক্ষ এবং কিছু পরোক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছি এই গল্প। ছাপা হয়েছে গত ৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে প্রকাশিত মেদিনীপুর সাহিত্য আকাদেমির মুখপত্রে। গল্পটি পড়ার পরে আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকবেন বন্ধুরা।


