Saturday, July 8, 2023

রাজপাট (পড়ুন প্রতিলিপি অ্যাপে)

'প্রতিলিপি' অ্যাপে লিখছি প্রায় এক বছর হল। প্রতিলিপি সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। এই প্লাটফর্মে প্রচুর পাঠক। গল্প, উপন্যাস পড়ার এ হল এক আধুনিকতম উপায়। মোবাইলের পর্দায়, পাঠক, নিজের খুশি মত পড়তে পারেন। লেখা ভালো লাগলে, সাবস্ক্রাইব (Subscribe) করার সুযোগ আছে। তাছাড়া, Review করা যায়, Rating দেওয়া যায়। 

এই প্লাটফর্মে আমার বেশ কিছু লেখা আছে। সম্প্রতি শুরু করেছি একটি উপন্যাস। নাম, 'রাজপাট'। 

অরিত্র এঞ্জিনীয়ারিং ফাইনাল দিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখান থেকে উপন্যাস শুরু। নীচে প্রচ্ছদ দিলাম।

উপন্যাস পৌঁছেছে ২৯ পর্বে। এই পর্বটি প্রকাশিত হল কিছুক্ষণ আগে। চাইলে, আপনারা এখনই পড়তে পারেন। পড়ে বলতে পারেন, কেমন লাগল....

............অরিত্র ধীর পায়ে টেবিলের দিকে হাঁটতে শুরু করল। একটা বিষয় কিছুতেই সে বুঝতে পারছিল না। মা তো শরীর খারাপ লাগছে বলে, শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। তাহলে কেন বিছানার চাদর থেকে শুরু করে, মাথার বালিশ, পাশ বালিশ, সব এত দোমড়ানো, মোচড়ানো। বিছানায় যেন ধস্তাধস্তি হয়েছে। তাও একটু আধটু নয়, প্রবল ধস্তাধস্তি।  শুধু বাবার মাথার বালিশ যেমন থাকে, তেমনই ছিল। আর সব কিছু ছিল ওলটপালট।....

প্রতিলিপিতে আমার অনলাইন সাহিত্য নিয়ে একটা Facebook Reels দিয়েছিলাম। 


আত্মঘাতী (শূন্য থেকে ফিরে)

'শূন্য থেকে ফিরে', আমার প্রথম কবিতার বই। প্রথম সংস্করণ ২৫ শে বৈশাখ, ১৪২৪, ইংরেজী ৯ মে, ২০১৭। স্মৃতিমেদুর এক শুভারম্ভ। জীবনের প্রথম কবিতার বই, প্রকাশ পেতে চলেছে। পাণ্ডুলিপি, প্রকাশকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর থেকে, শুরু হয়ে গিয়েছিল তীব্র এক উন্মাদনা। 

প্রথম প ্রুফ তৈরি হল, প্রকাশক বললেন, 'আপনাকে আরও কয়েকটা আবশ্যিক কাজ করে ফেলতে হবে।'

আবশ্যিক কাজ কি, জানতে চাইলাম। উত্তর এলো, 'ভালো প্রচ্ছদ আঁকাতে হবে। আপনি দায়িত্ব নেবেন নাকি আমি চেনাজানা শিল্পীকে দিয়ে করিয়ে নেবো। তবে ভরসা রাখতে পারেন। প্রচ্ছদ আকর্ষণীয় হবে।'

আমি বললাম, 'ঠিক আছে। আপনার শিল্পীকে দিয়ে প্রচ্ছদ আঁকিয়ে দিন।' 

বলতে নেই, প্রচ্ছদ খারাপ হয়নি। আমার তো খুব পছন্দ। আপনারা বলুন, প্রচ্ছদ কেমন? এই যে নীচে, কাব্যগ্রন্থের ছবি দিলাম।

এর পরের কাজ, প্রকাশক বললেন, উৎসর্গ কার উদ্দেশ্যে, তার নাম বলতে হবে। আমি বললাম, 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।' প্রকাশক খুশি হলেন। তারপর ভূমিকা ইত্যাদি তৈরি করে নিয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হল 'শূন্য থেকে ফিরে'। বইতে কবিতা আছে মোট ৫৬টি। সূচীপত্রের প্রথম কবিতা, 'আত্মঘাতী'। কবিতার কয়েকটা পংক্তি নিয়ে YouTube Shorts বানিয়েছি। নীচে তার লিংক দিলাম।



    


Monday, April 25, 2022

সেই রাতঃ একটি করুণ কাহিনী

 


যারা শহরতলিতে থাকেন, তাদের অনেকের কাছে বেশি রাতের ট্রেন সফর একটা বিড়ম্বনা। ভাগ্যে থাকলে কি-ই বা করবেন। তবে এড়াতে পারলে ভাল।

ব্যক্তিগত ভাবে আমার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সুবার্বান ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা প্রচুর। দিন, রাত মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে লোকাল ট্রেনে চড়েছি। যা দেখেছি, মোটামুটি হাওড়া থেকে যে লোকাল রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে ছাড়ে, সেসব ট্রেনের কামরায় তবুও মোটামুটি যাত্রী থাকে। তারপর যে সব ট্রেন ছাড়ে, তাতে যাত্রী সংখ্যা ভীষণ ভাবে কমে যায়। আরও উৎকণ্ঠার বিষয় যে এই বেশি রাতের ট্রেন যাত্রীদের একটা মোটামুটি বড় অংশ মদ্য পান করে ট্রেনে ওঠে। সেটা তাদের আচরণ থেকে বোঝা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা বাকি যাত্রীদের না অসুবিধা সৃষ্টি করছে, কোন কিছু এসে যাচ্ছে না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা অসুবিধার কারণ হয় বই কি। 

যেমন তারা যদি আসনে না বসে কামরার মেঝেতে বসে, তবে তাদেরকে ডিঙিয়ে গেটের দিকে যেতে হবে। শান্তিপ্রিয় যাত্রীরা যতই মনে মনে তাদের এড়িয়ে চলতে চায় না কেন বাধ্য হয়ে সরে বসার কথা বলতে হয়।  এই সময়কার ট্রেনে আবার সবজি কেনাবেচা চলে। সেই সব সবজি বিক্রেতা এবং এই সব মদ্যপ যাত্রীদের এড়িয়ে গেটের দিকে যেতে কখনও কখনও খুবই অসুবিধা হয়।

এছাড়াও যে বিপদটা বেশি রাতের লোকাল ট্রেনে থাকে, তা হল ছিনতাইবাজ এবং দুর্বৃত্তদের উপস্থিতি। মোটামুটি সাঁত্রাগাছি বা মৌরীগ্রাম-আন্দুল পর্যন্ত এরা চুপ থাকে। কারণ হাওড়া শহরের বসতি অনুপাতে হাওড়া থেকে এই দূরত্ব পর্যন্ত যাত্রীসংখ্যা বরাবর বেশি। সুতরাং বেশি রাতের লোকালে যখন এমনিতেই মোট যাত্রী  সংখ্যা কম, সেখানে এই অধিক সংখ্যক যাত্রী আন্দুল পর্যন্ত যাওয়ার পর কামরার অবস্থা কি হয় বোঝাই যায়। এবং বাস্তব বলছে এরপর ট্রেনে যে সব যাত্রী রয়ে যায়, দুর্বৃত্ত বা ছিনতাইবাজরা তাদেরই লক্ষ্য করে।

যাই হোক, কিছু প্রত্যক্ষ  এবং কিছু পরোক্ষ অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছি এই গল্প। ছাপা হয়েছে গত ৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে প্রকাশিত মেদিনীপুর সাহিত্য আকাদেমির মুখপত্রে। গল্পটি পড়ার পরে আপনাদের প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকবেন বন্ধুরা।